খেলাধুলা | 10.10.2008
অলিম্পিক চলাকালে নেয়া সকল মাদক নমুনা আবারও পরীক্ষা হবে
একের পর এক সাইকেল প্রতিযোগীর ডোপিং এর ঘটনা ধরা পড়ার পর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বেইজিং অলিম্পিক চলাকালে নেয়া সকল মাদক নমুনা আবারও পরীক্ষা করে দেখবে৷
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আইওসি ঘোষণা করেছে যে তারা বেইজিং অলিম্পিকের খেলোয়াড়দের ডোপিং পরীক্ষার সকল নমুনা আবার পরীক্ষা করে দেখবে৷ গত কিছুদিন ধরে বেশ কয়েকজন সাইকেল প্রতিযোগীর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে তারা নতুন এক মাদক ব্যবহার করেছেন৷ এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বেইজিং অলিম্পিকের মাদক নমুনা আবার পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এসব নমুনায় কোন নিষিদ্ধ মাদক রয়েছে কিনা তা চিহ্নিত করতে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে৷
আইওসির মুখপাত্র এমানুয়েলে মোরে বার্তা সংস্থা ডিপিএকে জানিয়েছেন নতুন উদ্ভাবিত মাদক সিইআরএ সহ অন্য কোন মাদক রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতেই নতুনভাবে নমুনা পরীক্ষা করা হবে৷ উল্লেখ্য, কন্টিনিউয়াস ইরিথ্রপোইয়েসিস রিসেপটর একটিভেটর বা সিএআরএ হচ্ছে নতুন প্রজন্মের এক ধরনের মাদক যা দেহে অক্সিজেন চলাচলকে বাড়িয়ে তোলে৷ এ মাদক ব্যবহারের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা তাদের দেহে বাড়তি শক্তি পেয়ে থাকে৷ সম্প্রতি সবচে বড় সাইকেল চালনা প্রতিযোগিতা টুর দ্য ফ্রঁস শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের নমুনায় নিষিদ্ধ মাদক পাওয়া গেছে৷ এদের মধ্যে জার্মানির স্টেফান শুমাখার এবং ইতালির লিওনার্দো পিপোলি উল্লেখযোগ্য৷ এ ঘটনার পর এখন আইওসি বেইজিং অলিম্পিক চলাকালে নেয়া খেলোয়াড়দের মাদক নমুনা আবারও পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ উল্লেখ্য, অলিম্পিক চলাকালে কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের মাদক নমুনা পরবর্তী আট বছরের জন্য সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছিলো৷
এদিকে সাইকেল চালনা প্রতিযোগিতায় বার বার মাদক নেয়ার ঘটনা ধরা পড়ায় এ ইভেন্টকে আগামী অলিম্পিকে রাখা হবে কিনা সেটা নিয়েই এখন সংশয় জেগে উঠেছে৷ আইওসির ভাইস প্রেসিডেন্ট থমাস বাখ মনে করেন বার বার মাদক নেয়ার ঘটনায় এ ইভেন্টের গ্রহণযোগ্যতা এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে৷ তিনি বলেছেন, সাইকেল প্রতিযোগীরা তাদের ইমেজ বাড়ানোর সুযোগকে কাজে লাগাতে পারছে না৷ এদিকে জার্মান সাইকেল প্রতিযোগী স্টেফান শুমাখারের মাদক কেলেঙ্কারীর পর জার্মান সাইকেল ফেডারেশন বিডিআর এবং মাদক বিরোধী সংস্থা এনএডিএ এক তদন্ত শুরু করেছে৷ এমনকি আগামী ট্যুর দ্য ফ্রঁস প্রতিযোগিতা সম্প্রচার করা হবে কিনা সে ব্যাপারেও চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে জার্মান টেলিভিশন এআরডি এবং জেডডিএফ৷ গত বছরের প্রতিযোগিতা চলাকালে একাধিক মাদক কেলেঙ্কারী ধরা পড়ার পর প্রতিযোগিতার মাঝপথেই সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিলো এ দুটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক৷





























